সর্বশেষ

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০

‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পিছপা হব না’

‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পিছপা হব না’

‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পিছপা হব না’
Image Source- ProthomAlo


করোনার সঙ্গে লড়ে জয়ী ঢাকা মহানগর পুলিশের চার সদস্য ফিরছেন নিজ নিজ দায়িত্বে। এ জন্য তাঁরা প্রস্তুত। মনোবলে অটল তাঁরা মৃত্যু এলেও পরোয়া নেই। এর আগ পর্যন্ত মানুষের সেবায় দায়িত্ব পালন করেই যাবেন। করোনার এই দুঃসময়ে এভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অনেক পুলিশ সদস্য। বৃহস্পতিবার ঢাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হাওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন—এমন চারজন প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। ডিএমপির পরিবহন শাখায় কর্মরত পারভেজ মোশাররফ ভালোই ছিলেন। হঠাৎ গায়ে জ্বর। গলাব্যথাটা একেবারে সহ্যের বাইরে। পরীক্ষায় দেখা গেল, যা আশঙ্কা করছিলেন, তা-ই। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এভাবে পুলিশ সদস্যরা কিন্তু কম সংক্রমিত হচ্ছেন না এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে। করোনায় যত মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন, এর মধ্যে ১০ শতাংশ পুলিশ সদস্য। মারাও গেছেন ছয়জন। দেশে-বিদেশে সব জায়গায়ই শুধু খারাপ খবর। Lifebuoy Soap এই যখন পরিস্থিতি, সাড়ে চার বছর আগে পুলিশে যোগ দেওয়া পারভেজ মানসিকভাবে একটু দুর্বলই হয়ে পড়লেন। তাঁরও যে করোনার সংক্রমণ। পারভেজ থাকেন ঢাকার রাজারবাগ ব্যারাকে। সন্তানসম্ভবা স্ত্রী থাকেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে, মা–বাবার সঙ্গে। খবরটা শুনলে স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কী যে হয়, ভেবে অস্থির তিনি। একপর্যায়ে দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে পরিবারের সবাইকে পারভেজ জানিয়ে দিলেন নিজের অসুস্থতার কথা। স্ত্রী ভীষণ ঘাবড়ে গেলেন। ১৭ এপ্রিল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হলেন পারভেজ। এক দিন পর ১৯ এপ্রিল স্ত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন। করোনার সঙ্গে লড়ে পারভেজও জয়ী হলেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে সবাই এখন ভালো আছেন। পারভেজের সঙ্গে আরও ২০ সহকর্মীও সেরে উঠেছেন। সুস্থ হওয়ার পথে আরও অনেকে। তাঁদের একজন মো. মতিন। তিনিও পরিবহন শাখায় কাজ করেন। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ঢাকার বাসায় থাকেন। ৬ এপ্রিল কাজ সেরে বাসায় ফেরার পর জ্বর, গলাব্যথা। তিনি গরম পানিতে লবণ দিয়ে গড়গড়া করতে লাগলেন। কিছুতেই কিছু হয় না। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে পাঠালেন। এক দিন অপেক্ষা করলেন। ৮ এপ্রিল পরীক্ষা করাতে গেলেন, রিপোর্ট পজিটিভ। আরও দুদিন অপেক্ষা করার পর ১১ এপ্রিল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন তিনি ছাড়া সেখানে আরেকজন ভর্তি। ১১ দিন পর দুটো রিপোর্টে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নেই নিশ্চিত হয়ে বাসায় ফিরেছেন। নীলফামারির ছেলে আলমগীর হোসেন ১৫ এপ্রিল নমুনা দিয়েছিলেন। রিপোর্ট পজিটিভ পেয়ে ১৭ এপ্রিল হাসপাতালে যান, ফিরেছেন ৬ মে। করোনায় সংক্রমিত হওয়ার খবরে ভয় পেয়েছিলেন কি না, জানতে চাইতে সংক্ষেপে জবাব দিলেন এই স্বল্পভাষী। তাঁর মধ্যেও রোগমুক্ত হয়ে ফিরে আসার আবেগটুকু ধরা পড়ল। পুলিশ সদস্য মো. হাসান আলীকে অবশ্য গোড়া থেকে শক্তই থাকতে হয়েছে। ঢাকার কাছে ধামরাইয়ে মা–বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানের যৌথ পরিবার। ওয়ারিতে দায়িত্ব পালন শেষে ক্লান্ত শরীরে ব্যারাকে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘুম ভাঙে বুকে চাপ আর শ্বাসকষ্ট নিয়ে। করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগের খবর জেনে পরিবার ভীষণ মুষড়ে পড়ে। মো. হাসান আলী ফোন করে ঘরের লোকদের সাহস জোগাতেন, বলতেন তাঁর কিচ্ছু হয়নি। তিনি ঠিক হয়ে যাবেন। সত্যিই তিনি সুস্থ হয়েছেন। পুলিশে কেন এত সংক্রমণ এই চারজন তো ঠিক হয়ে গেলেন, সংক্রমিত অনেকে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশের এত সদস্য সংক্রমিত হওয়ার কারণ কী? এ ব্যাপারে মিডিয়া ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, মহামারিতে পুলিশের কাজের ব্যাপ্তি। সামাজিক দূরত্ব সবাই যেন বজায় রাখে, সে কাজ করছে পুলিশ, লকডাউন যেন ঠিকঠাক মানা হয়, সেটা নিশ্চিত করছে, ত্রাণ বিতরণ করছে, মৃতদেহের সৎকার করছে, তল্লাশিচৌকিতেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সেদিক থেকে পুলিশ একেবারে সামনে থেকে ভাইরাসের মোকাবিলা করছে। তাই তাদের ঝুঁকিটাও বেশি।’ পুলিশের আবাসন-সংকটও একটা কারণ বলে মনে করেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও মাঠে থাকা পুলিশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ও সদস্য বলেছেন, বছর বছর পুলিশে সদস্যসংখ্যা বাড়লেও আবাসনের সুব্যবস্থার দিকে নজর ছিল না। মহামারির সময় পুলিশ প্রশাসন যতদূর সম্ভব নানা জায়গায় সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করেছে। কোথাও কোথাও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে অধীন সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, ট্রাফিক ব্যারাক চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি রিকভারি সেন্টার করা হয়েছে রাজারবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজে। উপসর্গ থাকা পুলিশ সদস্যদের জন্য চারটি হোটেল, তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডেমরা পুলিশ লাইনস ব্যবহার করা হচ্ছে। উপসর্গ না থাকা পুলিশ সদস্যদের কোয়ারেন্টিনের জন্য তিনটি হোটেল, উত্তরা পুলিশ লাইনস, রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও ডিবি ব্যারাক ব্যবহার করা হচ্ছে এখন। সবাই যেন একসঙ্গে সংক্রমিত না হন, এ জন্য এখন পুলিশ সদস্যরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। লক্ষ্য এখন রোগমুক্ত থাকা, সংক্রমিত হলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত যাতে সেরে ওঠেন, সে উদ্যোগ নেওয়া। এমনটাই বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কাজে ফিরতে প্রস্তুত সেরে ওঠা চারজনই বলেছেন, মনের দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সহকর্মীরা সাহস জুগিয়েছেন। এখন তাঁরা সুস্থ, কাজে ফিরতে প্রস্তুত। পারভেজ মোশাররফের অবশ্য ছোট্ট একটা ছুটি চাই। মেয়েটাকে জন্মের পর ছুঁয়ে দেখেননি। একবার স্পর্শ করেই ঢাকায় কাজে ফিরবেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ কাজে ফেরত যাব। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পিছপা হব না। এটাই শপথ নিয়েছি। যত দুর্যোগ আসুক, মোকাবিলা করব।’

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

করোনার পরিস্থিতি চললে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ বললেন প্রধানমন্ত্রী

করোনার পরিস্থিতি চললে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ বললেন প্রধানমন্ত্রী

করোনার পরিস্থিতি চললে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ বললেন প্রধানমন্ত্রী
Image Source- Google
করোনার পরিস্থিতি চললে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ বললেন প্রধানমন্ত্রী,

করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
তিনি বলেছেন, যখন করোনার প্রকোপ থাকবে না, তখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। আজ সোমবার গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা এখন স্কুল–কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলব না। অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল–কলেজ সবই বন্ধ থাকবে, যদি করোনাভাইরাস অব্যাহত থাকে। যখন এটা থাকবে না, তখনই খুলব।'
Lifebuoy Soap প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কিছু কিছু জীবনযাপন আমাদের আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানেও সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করবে।' মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা এবং জীবিকার পথ উন্মুক্ত রাখার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'যেসব জায়গায় করোনাভাইরাস বেশি দেখা দেয়নি, ধীরে ধীরে সেই জায়গাগুলো শিথিল করে দিচ্ছি। যাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন অব্যাহত থাকে।' শেরপুর জেলার ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা করে ১০ হাজার টাকা জমা করেছিল নিজের ঘর ঠিক করার জন্য। ছেঁড়া একটি পাঞ্জাবি গায়ে। ঘরে খাবারও ঠিকমতো নেই। কিন্তু তারপরেও সেই মানুষ ওই ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছে করোনাভাইরাসে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের সাহায্যের জন্য। আমি মনে করি, সারা বিশ্বে এটা মহৎ দৃষ্টান্ত তিনি সৃষ্টি করেছেন। এত বড় মানবিক গুণ আমাদের অনেক বিত্তশালীর মাঝেও দেখা যায় না। কিন্তু একজন নিঃস্ব মানুষ, যাঁর কাছে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই টাকা দিয়ে সে অনেক কিছু করতে পারত। কোনো চিন্তা সে করেনি। সেটা তিনি দান করেছেন।

এই যে একটা মহৎ উদারতা দেখালেন, বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এখনো এই মানবিক বোধটা আছে। কিন্তু সেটা আমরা পাই, যারা নিঃস্ব তাঁদের কাছে। অনেক সময় দেখি, অনেক বিত্তশালী অনেক হা-হুতাশ করেই বেড়ান। কিন্তু তাঁদের নাই নাই অভ্যাসটা যায় না। তাঁদের চাই চাই ভাবটা সব সময় থেকে যায়।' প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় নেতাদের ধন্যবাদ জানান নির্দেশনা মেনে চলার জন্য। তিনি বলেন, রোজার মাসে সবাইকে বেশি করে দোয়া করতে হবে, যাতে এই দুর্যোগ থেকে মানুষ মুক্তি পায়। যারা হাত পেতে চাইতে পারে না, তাদের আলাদা করে তালিকা করতে হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের জন্যও কার্ড করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সামনে ঈদ রেখে আরও এক দফা ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যাঁরা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেছেন, কিন্তু এই ভাইরাসের কারণে এই সময়ে ঋণের সুদ বেড়ে গেছে বলে চিন্তা করবেন না। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন, যাতে সুদ স্থগিত থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে কৃষির ওপর গুরত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। ধান কাটার পর সেই জমিও কাজে লাগানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দুধসহ পোলট্রি ফেলে না দিয়ে তা অল্প টাকায় বিক্রি ও মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব স্তব্ধ। এই ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত সংক্রামক একটা ব্যাধি। কার যে কখন হবে, বোঝা যায় না। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। যারা ভাইরাস মোকাবিলায় কাজ করছে, তাদের সহযোগিতা করতে হবে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০

মে মাসে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কেমন হবে জেনে নিন

মে মাসে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কেমন হবে জেনে নিন

মে মাসে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কেমন হবে?
Image Source- Pixabay
মে মাসে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কেমন হবে?
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ইতোমধ্যে ৪৫ দিন পেরিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৯ জন। অপর দিকে মৃত্যু বরণ করেছেন ২৩১ জন। 

সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করে বলেন, এই সময়ে বিশ্বের অন্য দেশে যে হারে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল তার তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণের সংখ্যা কম। তিনি বলেন, প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ইতালিতে ৪৫ দিনে আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ ৩০ হাজার। মারা গিয়েছিল প্রায় ১১ হাজার। স্পেনে একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ এবং মারা গিয়েছিল ১০ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয় এক লাখ ২০ হাজার এবং মারা যায় ২৪ হাজার। সে তুলনায় বাংলাদেশের প্রথম ৪৫ দিনের অবস্থান ভালো। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেশ কয়েক দিন ধরেই তিনশ বা চারশোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাহলে কি এপ্রিল মাস ক্রিটিক্যাল ছিল না? তবে করোনাভাইরাস সংক্রমিত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলে যে ধারণাটি পাওয়া যায় তা হলো এই সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ার কথা ছিল। একটা পর্যায়ে এসে এ সংখ্যা প্রতিদিন এক হাজার কিংবা দুই হাজারও হতে পারতো। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই সংখ্যাটি কেন বাড়ছে না সে বিষয়ে চিন্তার অবকাশ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলছেন, বাংলাদেশে টেস্ট করানোর মেকানিজমটা এতো দিনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল এবং সেটা পুরোপুরি সচল হওয়া দরকার ছিল। এই পরীক্ষার মেকানিজম কতটা সচল সেটা একটা প্রশ্ন। তার মতে, যে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে বা যারা লক্ষণ নিয়ে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন তারা যদি করোনাভাইরাস সংক্রমিত না হয়ে থাকেন তাহলে বলা হচ্ছে যে তার করোনা নেই। কিন্তু তাহলে তার মধ্যে লক্ষণগুলো অন্য কী কারণে দেখা দিয়েছে সে বিষয়টি আর পরিষ্কার করা হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় নেগেটিভ আসার অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলে নমুনা সংগ্রহ। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে অনেকের মধ্যেই করোনাভাইরাস শনাক্ত হচ্ছে যাদের মধ্যে কোন উপসর্গ নেই। একই ধরণের ধারা দেখা যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, মে মাসের প্রথম দিকে পিক ( সর্বোচ্চ সংক্রমণের সংখ্যা) পাওয়া যাবে না। এটা আরো প্রলম্বিত হবে। তারা মনে করেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যখন পুরোপুরি সচল হবে এবং পরিবহন ব্যবস্থা যখন চালু হবে, তখন বোঝা যাবে যে আসলে সংক্রমণ কতটুকু বাড়ছে। তখন কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে আসবে। সর্বোচ্চ সংক্রমণের সংখ্যা (পিক) মে মাসে হবে নাকি সেটি জুন মাস নাগাদ হবে? বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি এক বড় প্রশ্ন। পিক আসলেও সেটা কতটা উচ্চতায় উঠবে? সামনের দিনগুলোতে এগুলো বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। এজন্যই তাদের দৃষ্টিতে মে মাসটি ক্রিটিক্যাল হতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান সাইফুল্লাহ মুনশি জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশে কোন প্রজেকশন করা হয়নি। তিনি জানান, একটা দেশের মধ্যে ডেমোগ্রাফি, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং এপিডেমিওলজিক্যাল তথ্যের ভিত্তিতে একটা কার্ভ তৈরি করা হয়। যার মাধ্যমে জানা যায় যে, রোগের পিকটা কখন হবে। তার মতে, বাংলাদেশে এটা করা হলে, এপ্রিল, মে নাকি কোন সময় পিকটা হবে তার ধারণা পাওয়া যেতো। কিন্তু আমাদের সেটা করা হয়নি। সাইফুল্লাহ মুনশি জানান, মে মাসকে ক্রিটিক্যাল ধরতে হবে কারণ বর্তমানে সংক্রমণের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সে হারেই যদি বাড়তে থাকে তাহলে মনে হচ্ছে যে, মে মাসে গিয়ে হয়তো একটা পিকে পৌঁছে যাবে। কারণ এখন প্রতিদিনই চারশ-পাঁচশ জন আক্রান্ত হচ্ছে। এটা আরো বাড়বে বলেও আশঙ্কার কথা জানান তিনি। সংক্রমণের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে কোন মডেল ধরে কাজ করা হচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, এ বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি বলেন, এপ্রিল মাসটি ক্রিটিক্যাল অবশ্যই ছিল কারণ ঠিক এক মাসে আগের তুলনায় বর্তমানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।
রাজধানীর একটি শপিংমলের ছাদে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি হবে

রাজধানীর একটি শপিংমলের ছাদে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি হবে

ঢাকায় শপিংমলের ছাদে হচ্ছে করোনা হাসপাতাল
Image Source- Google

ঢাকায় শপিংমলের ছাদে হচ্ছে করোনা হাসপাতাল,

রাজধানীর একটি শপিংমলের ছাদে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. হাবিবুর রহমান খান। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এ কথা জানান তিনি। এছাড়াও আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে প্রস্তুত হবে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে নির্বিতব্য কোভিড হাসপাতাল। এসময় তিনি আরো বলেন, ৯টি হাসপাতাল করোনা আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসা দানে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া রোগীর সংখ্যা বাড়লেও বেডের অভাব হবে না। তিনি আরো বলেন, কর্ম কমিশনে অপেক্ষমাণ ২০০০ ডাক্তারকে নন ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। অনুমতি মিলেছে। কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোভিড হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক, নার্সদের রোগীদের কাছে গিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার অনুরোধ করছি। তিনি জানান, কিট সংকট হবে না ,তবে পরিমাণ বলে কোনো লাভ নেই। ভবিষ্যতে সরকারি সব হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপোর্ট অন্তর্ভুক্ত রেখে নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০

করোনা চিকিৎসায় ব্যর্থ হলো সকলের আশা জাগানো রেমডেসিভি

করোনা চিকিৎসায় ব্যর্থ হলো সকলের আশা জাগানো রেমডেসিভি

করোনা চিকিৎসায় ব্যর্থ হলো সকলের আশা জাগানো রেমডেসিভি
Image Source- Google
করোনা চিকিৎসায় ব্যর্থ, আশা জাগানো রেমডেসিভি! Homepageকরোনা ভাইরাস করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য সম্ভাব্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেই ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে মনে করা হয়েছিল, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির আশা জাগাবে। এক চীনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এ ওষুধ করোনা চিকিৎসায় সফল হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক খসড়া প্রতিবেদনে হুট করেই ব্যাপারটি প্রকাশ করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, রেমডেসিভির করোনায় আক্রান্ত রোগীদের উন্নতিতে কাজ করেনি এবং রক্তপ্রবাহে প্যাথোজেনের উপস্থিতি হ্রাস করতে পারেনি। তবে এ ওষুধের পেছনে কাজ করা মার্কিন কোম্পানি গিলিড সায়েন্সেস বলছে, ওষুধটি সম্পর্কে প্রতিবেদনে সঠিকভাবে উঠে আসেনি। এদিকে, ওষুধটির ব্যর্থতার ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার পরই তা সরিয়ে ফেলা হয়। ডব্লিউএইচও বলছে, ভুলবশত ওই খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছিল। বিজ্ঞান আপনাকে যে উত্তর দেয় না, তা ধর্ম আপনাকে দিচ্ছে: আরিফ আজাদ আবিষ্কার করলো পারমানবিক বোমা। আবিষ্কার করেই তা মজুদ করলো পৃথিবীর শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো। বিজ্ঞান তো আবিষ্কার করেই খালাস৷ কিন্তু, এই পারমানবিক বোমা কোথায় ব্যবহার করা যাবে আর কোথায় যাবে না, এই বিষয়ে বিজ্ঞানের কোন বয়ান আছে? সোজা উত্তর- নাই। কিন্তু, আপনার সামনে এই বয়ান হাজির করে ধর্ম। ধর্ম আপনাকে বলে, মানুষ এবং প্রকৃতির বিনাশ সাধিত হয়, এমন কোন কাজ আপনি করতে পারবেন না। আপনার ইচ্ছা হলেই আপনি কোন দেশের উপর পারমানবিক বোমা ছুঁড়ে মারতে পারেন না। বিজ্ঞান আপনাকে যে উত্তর দেয় না, তা আপনাকে ধর্ম দিচ্ছে। আবার ধরেন, যদি কোনোভাবে প্রমাণ হয় যে, এই করোনা ভাইরাস চীনের ল্যাবে তৈরি, তখন এইসব অনলাইন বিজ্ঞান-বাদীদের কি অবস্থা হবে? যদি জানা যায়, বিজ্ঞান দিয়েই এই ভাইরাস তৈরি, তাহলে এখানে বিজ্ঞান রক্ষাকর্তার ভূমিকায় থাকবে না হন্তারকের ভূমিকায়? কিন্তু দেখেন, ‘এমন মারণঘাতী ভাইরাস আপনি বানাতে পারবেন না’- এই মর্মে বিজ্ঞানের স্পষ্ট কোন ভাষ্য নেই।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

এগোয়নি রানা প্লাজা ধসের  মামলা ৭ বছরেও কেন দেখুন

এগোয়নি রানা প্লাজা ধসের মামলা ৭ বছরেও কেন দেখুন

এগোয়নি রানা প্লাজা ধসের  মামলা ৭ বছরেও কেন দেখুন
Image Source- Google
এগোয়নি রানা প্লাজা ধসের  মামলা ৭ বছরেও কেন দেখুন,
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন,
সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার ৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। বাংলাদেশের ইতিহাসের এই নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচার মোটেও এগোয়নি। মামলার দুজন অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির পক্ষে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় বর্তমানে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাতে পারেননি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান আইন কর্মকর্তা সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খোন্দকার আবদুল মান্নান। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের ঘটনার হত্যা মামলায় দুজন আসামির পক্ষে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কারণে সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যে ওই দুই আসামির পক্ষে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে।’ পিপি আবদুল মান্নান জানান, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে তাঁদের (পিপি) পক্ষে কিছু করার থাকে না। বরং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেবেন। দুজন আসামির পক্ষে স্থগিতাদেশ থাকায় রানা প্লাজা ধসের হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ থাকার বিষয়টি জানানোর পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট খোলার পরপরই রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যার মামলায় দুই আসামির পক্ষে থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। অবশ্য রানা প্লাজা ধসের ঘটনার সাত বছরের মাথায় বিচার শেষ না হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রপক্ষের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন মারা গেলেন। ঘটনার সাত বছর পূর্ণ হচ্ছে। অথচ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার মোটেও এগোয়নি। কয়েক বছর ধরে একই কথা শুনে আসছি। স্থগিতাদেশে সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপক্ষের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। যে কারণে এই মামলার বিচার এগোচ্ছে না।’ সাত বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন। গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরও ১ হাজার ১৬৯ জন। এ ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত হত্যা মামলাটি করে পুলিশ। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে অপর মামলাটি করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে আরেকটি মামলা করে। প্রায় চার বছর আগে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই হত্যার অভিযোগে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ঢাকা জেলার পিপির দপ্তর সূত্র বলছে, বিচারিক আদালতের অভিযোগ গঠনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আট আসামি হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে এই আটজনের পক্ষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আসে। ইতিমধ্যে ছয় আসামির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কেবল সাভার পৌরসভার তৎকালীন মেয়র রেফায়েত উল্লাহ এবং তৎকালীন কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী খানের পক্ষে স্থগিতাদেশ বহাল আছে। রানা প্লাজা ধসের জন্য ছয়জন সরকারি কর্মকর্তাকে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি করার অনুমতি না পাওয়ার কারণে তিন বছর ঝুলে ছিল এই মামলা। সে সময় জনপ্রশাসন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুক্তি ছিল, যাঁরা বড় অপরাধ করেননি, তাঁদের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি করার অনুমতি দিতে পারবে না তারা। শেষ পর্যন্ত সরকারের অনুমোদন না পাওয়া গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। আদালত সূত্র বলছে, রানা প্লাজা ধস হত্যা মামলায় ৪১ আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন একজন। তিনি হলেন রানা প্লাজা ভবনের মালিক সোহেল রানা। জামিনে আছেন ৩২ আসামি। পলাতক ছয়জন। মারা গেছেন দুই আসামি। হত্যা মামলার অভিযোগপত্র কী বলছে রানা প্লাজা ধস হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে সাভার থানার পুলিশ। এরপর তদন্ত করে ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সবশেষ পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে নয়টায় সাভারের রানা প্লাজা ভবনের তৃতীয় তলায় পিলার ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। খবর পেয়ে বিজিএমইএর কর্মকর্তারা রানা প্লাজা ভবনে আসেন। গার্মেন্টস মালিকদের পরামর্শ দেন, বুয়েটের ভবন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা পর্যন্ত সব কার্যক্রম যেন বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পাঁচ গার্মেন্টস মালিক এবং তাঁদের লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে পরদিন (২৪ এপ্রিল) শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন। এর সঙ্গে যোগ দেন রানা প্লাজা ভবনের মালিক খালেক ও সোহেল রানা। সোহেল রানা সেদিন বলেছিলেন, ‘আগামী ১০০ বছরেও রানা প্লাজা ভেঙে পড়বে না।’ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, রানা প্লাজা ভবন তৈরির প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন ভবনটির মালিক খালেক এবং তাঁর ছেলে সোহেল রানা, যা রানা প্লাজা ভবনকে একটি মৃত্যুকূপে পরিণত করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাণিজ্যিক এই ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। এসব কারখানায় বসানো হয় বৈদ্যুতিক ভারী জেনারেটর, ভারী সুইং মেশিন। রানা প্লাজা ধসের আগের দিন ভবনের তৃতীয় তলায় ফাটল দেখা দেয়। কিন্তু মালিকপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে পরদিন পাঁচটি পোশাক কারখানা চালু করে। ঘটনার দিন সকাল নয়টায় রানা প্লাজায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন একসঙ্গে পোশাক কারখানাগুলো তিনটি জেনারেটর চালু করে। ঠিক তখনই রানা প্লাজা ভবন বিকট শব্দ করে ধসে পড়ে। এ ছাড়া ইমারত নির্মাণ আইনে মামলায় রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ওই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম (সিজিএম) আদালত পরের বছর ১৪ জুন অভিযোগ গঠন করেন। ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন আসামি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। পিপি খন্দকার আবদুল মান্নান জানান, রিভিশনের কারণে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ স্থগিত রয়েছে। কেবল রানা প্লাজার ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার বিচার চলমান। মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ চলমান। রানা প্লাজা ধসের ঘটনার মামলাগুলোর বিচারের দীর্ঘসূত্রতার বিষয় জানানো হলে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। যেকোনো মামলার বিচার বিলম্বিত হলে বিচারপ্রার্থী চরম হতাশ হন। রানা প্লাজা ধসের মতো আলোচিত ঘটনার মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষকে আরও তৎপর হওয়া উচিত।

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০

করোনা শনাক্ত ২৯৪৮ জনের, মৃত্যু ছাড়ালো ১০০ এর বেশি

করোনা শনাক্ত ২৯৪৮ জনের, মৃত্যু ছাড়ালো ১০০ এর বেশি

করোনা শনাক্ত ২৯৪৮ জনের, মৃত্যু ছাড়ালো ১০০ এর বেশি

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন মারা গেছেন। একই সময় দেশে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৪৯২ জন। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের তুলনায় মৃত্যু বেড়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। 
এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেলেন ১০১ জন। আর মোট শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯৪৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ৮৫ জন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গতকাল ২ হাজার ৬৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
গল্প শাড়ী পড়ুন ~নিশাত তাসনিম

গল্প শাড়ী পড়ুন ~নিশাত তাসনিম


দুপুর আড়াইটা। মীরজাদি ফ্লোরাকে আবার দেখা যাচ্ছে টিভির পর্দায়। আজ সে পরেছে তার কালেকশনের সবচেয়ে সুন্দর শাড়িটা৷ চোখে-মুখে প্রফুল্লতা। পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে টিভির পর্দায়, ফ্লোরার দিকে৷ না, তার শাড়ির সংখ্যা গুনছে না আজ কেউ।
ময়রা আজ মিষ্টি বানাতে বানাতে টিভি দেখছে। বই হাতে ভয়ার্ত উৎফুল্ল চোখে দেখছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। ভার্সিটি পড়া ছেলেটার ব্যাগ গুছানো শেষ, ছোট বোনটা নামাযে বসেছে তার আটকে থাকা এসএসসির ফলাফলের টেনশনে। বাবা খুব লুকিয়ে পকেটে ভরে নিয়েছে লাইটার।
পুরো বাংলাদেশে আজ একযোগে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে এক ঘন্টার জন্য। সবজির গাছে ছেয়ে আছে ঢাকার সকল বারান্দা আর ছাদ। কিছুই করতে না জানা মেয়েটা আজ বাসার সবার জন্য পেঁয়াজু বানিয়ে টিভির সামনে বসেছে। থেমে আছে পুরো বাংলাদেশ।
মীরজাদি ফ্লোরার হাসি বিস্তৃত হলো। সামনের মাইক্রোফোনটা টেনে নিয়ে সে বললো, "আজ নতুন টেস্ট করা হয়েছে দশ হাজার। নতুন রোগীর সংখ্যা ০। ভালো হয়ে উঠেছেন আমাদের সর্বশেষ করোনা আক্রান্ত রোগীটি৷ বাংলাদেশ আজ করোনা মুক্ত।"
আবার থেমে গেলো সবকিছু৷ ১ সেকেন্ড...২ সেকেন্ড...
দুপুরের আকাশে একঝাঁক আতশবাজি বিদ্যুৎ চমকানোর মতোই আলো দিলো। জ্বলন্ত ফানুস চোখের আড়াল হলো নিমিষেই । হঠাৎ আলোড়নে চমকে উঠে চোখে না দেখা বৃদ্ধ শ্বশুর ।
ডেকে উঠে, "বউমা, ও বউমা, কি হয়েছে? আমাকে একটু বলো কেউ।"
বউমাও আসে দৌড়ে। কাঁদতে কাদঁতে বলে, "বাবা, চলেন বাইরে যাই, আপনার ছেলে আসবে আজকেই।"
বৃদ্ধ অবাক হয়। ছেলে অনেকদিন ধরে আসেনি বাড়িতে৷ কি জানি কি রোগের কথা শুনেছিলো সে। ছেলে আসেনি দেখে বউমাও সারাদিন খিটখিট করতো। বদমেজাজি বউমা আবার কাঁদতেও পারে!
ময়রা তার বউকে ডেকে বলে, "কেমন বুদ্ধি করে মিষ্টিগুলো বানিয়েছি বলো। এখনই দেখবে সব বিক্রি হয়ে গেছে।" ময়রার বউ আঁচলে মুখ ঢাকলো নাকি চোখের পানি মুছলো ঠিক বুঝা গেলো না।
মায়ের বকা খেয়ে পড়ার গতিবেগ বাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ফেইসবুকে ক্লাসের গ্রুপগুলো একটিভ হতে থাকে নতুন পোষ্টে৷ ডাক্তার, পুলিশ, স্বাস্থ্যখাতের লোকদের ছুটি দেয়া হয় শিফট করে৷ তুরাগ, বলাকার বাসগুলোর ইঞ্জিনের জ্যাম ছাড়াতে চেষ্টা করছে ড্রাইভারেরা। পানের ঝুড়ি সাজাতে ব্যস্ত বৃদ্ধ লতিফ৷ গার্মেন্টসগুলোর সামনে বসতে হবে তো।
মীরজাদি ফ্লোরা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলে, এইবার আপনাদের প্রশ্ন করুন। সাংবাদিকেরা সবাই চুপ। কোনো প্রশ্ন নেই কারো। পরদিন সকালে সকল দৈনিক সংবাদপত্র একই নিউজ করে, "করোনামুক্ত বাংলাদেশে নতুন ভোর।" সেই সংবাদপত্র বুকে মিশিয়ে কাঁদতে থাকে জনাব রাহমানের স্ত্রী। করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায় জনাব রাহমান। অথচ বিয়ের পর থেকে দুজনেই ভেবেছিলো, "একসাথে ভালো সময় পরেও কাটানো যাবে, আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিই।" নতুন ফ্ল্যাটের শেষ কিস্তিটা দেয়া হলেও ঘুরতে যাওয়া হয়নি তাদের...
নারায়ণগঞ্জের আবুল মিয়ার জামদানির ডাকনাম আছে। দীর্ঘদিনের লকডাউনে সে বানিয়েছে তার জীবনের সেরা জামদানীটি।
পাশের বাড়ির মতিন এসে বলে, "এইটাই তো লাখ টাকা বেঁচবা, মিয়া।"
আবুল মিয়া হেসে বলে, "এই জামদানী বেঁচুম না গো! খবর পরে না বেটিটা? ওই যে করোনার খবর পরে? শুনছি ওর নাকি শাড়ি ভাল্লাগে। এইটা আমি ওরে দিমু। ওরে কই পাওন যাইবো কইতে পারো?"
"শাড়ি"
~নিশাত তাসনিম
পড়ুন এক থালা ভালোবাসা গল্প

পড়ুন এক থালা ভালোবাসা গল্প

পড়ুন এক থালা ভালোবাসা গল্প

পড়ুন এক থালা ভালোবাসা গল্প,
: নাকফুলটা খু‌লে ফে‌লেন।
: হুম। খু‌লে ফে‌লেন। স্বামী মারা গে‌ছে। মে‌য়ে‌দের নাকফুল পড়‌তে নেই।
ওরা এসব কি বল‌ছে! মান‌ুষগু‌লো কি পাগল হ‌য়ে গে‌ছে! সিফাত ফ্যালফ্যাল ক‌রে শ্বাশুড়ীর দি‌কে তাকায়। নাকফুল কেন খুল‌তে হ‌বে। রাজিবের দেয়া নাকফুল। রাজি‌বের কি এমন হয়ে‌ছে! ওর ফোনটাই না হয় ধর‌ছে না! এ আর তেমন কি। হয়ত মি‌টিংয়ে ব্যস্ত, নয়ত বাইকে। ও যখন বাইকে থা‌কে তখন প্রায়ই ধ‌রে না। এ সিফা‌তের কা‌ছে নতুন নয়। আর আজ রে‌ডিস‌নে দাওয়াত আছে। সিফাত‌কে বার ক‌য়েক ব‌লে‌ছে।
: জানো, আজ রে‌ডিস‌নে দাওয়াত...রে‌ডিস‌নে দাওয়াত...
মুখ ঝাম‌টে উঠে‌ছিলো সিফাত।
: বারবার কেনো বলছো?
: তোমা‌কে রে‌খে একা যাবো!
: আমি একা না।
: হুম, দুইজন। আমা‌দের ভালোবাসার চিহ্নখানা।
রাজিব ওর পে‌টে হাত রা‌খে। সিফাত হা‌সে। হাস‌লে ওর গা‌লে টোল প‌ড়ে। রাজিব মুগ্ধ হ‌য়ে দে‌খে। সিফা‌তের হা‌সি‌তে পাগল হ‌য়েই ও প্রে‌মে প‌ড়ে‌ছিলো। গোলাপ ফর্সা মুখ। যেন দুধসা‌গ‌রে দু‌ধে গোলা‌পের পাপ‌ড়ি নিংড়ে দি‌য়ে‌ছে কেউ। চেরী রাঙা না‌কে হী‌রের নাকফুলটা বড্ড মা‌নি‌য়ে‌ছে। মেঘকা‌লো চুল। খোলা চু‌লে যেন মধ্যরা‌ত্রি নে‌মে আসে। রাজিব চুল ছুঁয়ে দে‌খে। স্বপ্ন নয়ত! নাহ্, স্বপ্ন নয়। বাস্তব। ওর বউ। সিফাত।
: নাম কি রাখ‌বে?
: কার?
পেট ছুঁয়ে দেখায় রাজিব।
: কেম‌নে বলবো?
: কেনো?
: জা‌নি না‌ তো ছে‌লে না মে‌য়ে?
: এবার আলট্রাস‌নো কর‌লেই জান‌বে।
: থাক, জানার দরকোর নাই।
: কেন?
: জান‌লেই প্রত্যাশা বে‌ড়ে যা‌বে।
সিফাত কাঁদে, ডুকরে কাঁদে। ওর গাল বে‌য়ে জ‌লের ধারা না‌মে। চোখ আর না‌কের জল এক হ‌য়ে আসে। কান্নার দম‌কে বু‌কে ব্যথা না‌মে। কে খবর দি‌য়ে‌ছে। হুম তাইতো? কে খবর এনেছে। সিফাত দৌ‌ড়ে ডাইনিংয়ে আসে। ওর শাশুড়ীমা স্তব্ধ ব‌সে। চেয়ার ঘে‌সে দাঁড়া‌নো বাসার ভাড়া‌টে ম‌হিলারা। কেউ মাথায় হাত বুলা‌চ্ছে, কেউ সান্তনা দি‌চ্ছে। সিফাত পাগ‌লের মতন দাঁড়ায়! ওকে দে‌খে শাশুড়ীমা দাঁত খিঁচি‌য়ে ওঠেন।
: এই মাতারী, এই মাতারীর লাইগাই আমার পুত আজ নাই।
হু হু ক‌রে কাঁদেন সা‌বিহা বেগম। চোখ বড় বড় ক‌রে তাকায় সিফাত।
: মা, কে খবর আনছে রাজিব নাই?
: দেক, মাতারী কয়‌ কি?
: জ্বি মা, আমি জান‌তে চা‌চ্ছি, কে খবর আন‌ছে?
: আমার মোবাইলে কল আইছে।
: কার?
: কে জা‌নে কার? রা‌ফিন গে‌ছে জানবার।
সিফাত হা‌তের ফোন থে‌কে রা‌ফিন‌কে ডায়াল ক‌রে। ফোন ধর‌ছে না রা‌ফিন। দুরুদুরু বু‌কে অপেক্ষা ক‌রে সিফাত। সিফাত জা‌নে, এমন ঘটনা ঘট‌তে পা‌রে। ওর বাবা ওকে আজ থে‌কে আটমাস আগে ব‌লে‌ছিলো।
জা‌হিদ পা‌টোয়ারীর একমাত্র মে‌য়ে সিফু, সিফাত পা‌টোয়ারী। বিজন্যাস ম্যাথ পড়‌তে এসে রাজী‌বের প্রে‌মে পড়া। কো‌চিংয়ের ভাইয়া। দুমা‌সেই প্রেম দানা বেঁ‌ধে প‌রিণ‌য়ে রূপ নেয়। ঘোর বি‌রোধ ক‌রে‌ছেন জা‌হিদ সা‌হেব। পা‌টোয়ারী সা‌হেব হুম‌কিও দেন। কোনো কাজ হয়‌নি। বাবার আলিশান অট্টা‌লিকা, পা‌জে‌রো জিপ ছে‌ড়ে মে‌য়ে তার পনের টাকার রিকশায় চড়া ছে‌লে রা‌জি‌বের ঘ‌রে এসে ওঠে। ঠাঁই বল‌তে মোহাম্মদপু‌রের চারতলা বা‌ড়িখানা। মারা যাবার আগে শ্বশুরমশাই এটাই রে‌খে গে‌ছেন রা‌জিব‌দের দুই ভাই‌য়ের জন্য। রা‌জিব আর রা‌ফি‌নের জন্য।
সিফাত বারান্দায় দাঁড়ায়। দালা‌নের বাইরের শেওলা ধরা অবয়‌বে বিষা‌দেরা ভর ক‌রে‌ছে। উঁকি দেয় সিফাত। রাস্তায় এক ল্যাংড়া ফ‌কির গান গাইতে গাইতে যা‌চ্ছে। সব‌জির ঠেলা দেখা যা‌চ্ছে। ও বা‌ড়ির রেহানা বুয়া‌কে দেখা যা‌চ্ছে। ওরা এখ‌নো জা‌নেনা রা‌জি‌বের কথা। মোবাইলটা বে‌জে ওঠে। বাবা! বাবা কেন ফোন কর‌বে? আজ আটমা‌সের ওপ‌রে। কোনো তপ্ত বাক্য কেন, সাধারন কথাও বি‌নিময় হয়‌নি বাপ‌-মে‌য়ের মা‌ঝে। সিফু এখন মি‌সেস রা‌জিব খান। পা‌টোয়ারী সা‌হেব ওকে কেন ফোন দে‌বেন! ও ধর‌বে কিনা ভাব‌তে ভাব‌তে সবুজ বাট‌নে প্রেস হ‌য়ে গেলো।
: সিফু, মা...
বাবার এতটা মোলা‌য়েম কন্ঠ বহু যুগ প‌ড়ে বোধ ক‌রি শুনল সিফাত।
: কেন ফোন ক‌রেছো?
ওপাশ খে‌কে কাঁদে, বাবা কাঁদে। সিফাতও কাঁদে। অন্ত‌রে কোথায় যেন জন্মদাতার জন্যও জায়গা ছিলো লু‌কো‌নো। লু‌কো‌নো জায়গাটুকুন আজ প্রকাশ পেলো যেন।
: তুই রেডী হ‌য়ে স্কয়া‌রে চ‌লে আয়।
: কেন?
অভিমান তা‌কে বাবা ডাক‌তে বাঁধা দেয়। কেঁপে ওঠে ঠোঁটগু‌লো। তির‌তির ক‌রে কাঁপে নাক।
: রা‌জিব আইসিউতে।
: কি?
সিফা‌তের বু‌কে যেন প্রাণ ফি‌রে আসে। ঢিপ‌ঢিপ বা‌জে বু‌কের ভিতর। হা‌তের মোবাইলখানা আরও জো‌রে চে‌পে ধ‌রে সিফাত।
: চ‌লে আয়।
: আস‌ছি।
সিফাত কোনো রক‌মে ওড়না চড়ায় গা‌য়ে। চো‌খের শঙ্কা এখনও কা‌টে‌নি। এটা কি বাবার ফাঁদ! না‌কি স‌ত্যি! সিএন‌জি‌তে চ‌ড়ে সিফু। রাস্তার প্র‌তিটা ঝাঁকু‌নি ওকে রা‌জি‌বের দি‌কে ত্বরা‌ন্বিত কর‌ছে। ওর প্রেম, ওর ভালোবাসা, ওর সন্তা‌নের বাবার কিছু হ‌লে ওর সন্দে‌হের তীরখানা ও ওর জন্মদাতার দি‌কেই ছু‌ঁড়ে দিতো। হ্যাঁ, তাই। কিন্তু বাস্তবতা কি ভিন্ন হ‌তে পা‌রে!
সিফাত লিফ‌টের জন্য দেরী ক‌রে না। সিঁড়ি ভা‌ঙে, দৌড়ায়। হাঁপায় সিফাত। রা‌ফিন ওকে দেখে দৌ‌ড়ে আসে।
: ভাবী আস‌তে পে‌রেছো?
: রা‌জিব কই রা‌ফিন?
: আছে।
: কেমন?
: তালই হেল্প না কর‌লে কি যে হতো!
সিফাত আড়চো‌খে দে‌খে। বাবা-মা দাঁড়ি‌য়ে। বিধ্বস্ত। মা এগি‌য়ে আসে।
: সিফু...
সিফাত ঠোঁট কাম‌ড়ে সামলায় নিজ‌কে। মা মাথায় হ‌াত রা‌খে। অশ্রু ঝ‌রে সিফুর চোখ থে‌কে। মা তার আঁচ‌লে মে‌য়ের চোখ মো‌ছেন। মা‌কে জ‌ড়ি‌য়ে কাঁদে সিফাত। বাবা আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়ি‌য়ে থা‌কেন। মে‌য়ের কা‌ছে আস‌তে ভয় পান যেন। বাবা আর মে‌য়ের ভালোবাসায় চ‌ব্বিশ বছ‌রে কোনো কম‌তি ছিলো না। আজ পঁচিশ বসন্ত পে‌রি‌য়ে যেন কোথায় বরফ জমাট বেঁধেছে। শীত যেন জাপ‌টে ধ‌রে‌ছে সে সম্প‌র্কে। সিফু চোখ সরি‌য়ে নেয়। দুর্বলতা না‌কি অভিমান কে জা‌নে। বি‌নি সূ‌তোয় যে বাঁধন গাঁথা, সে মালা কি কেউ ছি‌ড়তে পা‌রে! যে বাঁধন স্রষ্টা রক্ত‌ে দিয়ে‌ছেন, ছেড়ার সাধ্য কার! সিফু বাবা‌কে এ‌ড়ি‌য়ে, সে দৃ‌ষ্টি উপেক্ষা ক‌রে পোশাকটা গা‌য়ে জ‌ড়ি‌য়ে ভেত‌রে ঢু‌কে যায়। রা‌ফিন ভাবীর হাতটা একবার ধ‌রে।
: ভাবী, তালই না থাক‌লে ভাইয়া‌কে বাঁচা‌নো সম্ভব হতো না...
সিফু জলভরা চো‌খে একবার তাকায় রা‌ফি‌নের দি‌কে। শাশুড়ীমাও এ‌সে পৌঁছে‌ছেন।
: বৌমা, তু‌মিই আগে যাও।
সিফাত মাথা নে‌ড়ে ভেত‌রে চ‌লে যায়। বাসায় ওর ওপর যে আচরন ক‌রে‌ছে শাশুড়ীমা, সিফু কিছু ম‌নে ক‌রে না। কারণ, সন্তা‌নের অমঙ্গ‌লে মাথা ঠিক ছিলো না তার। সিফুর বু‌কের কো‌নে কোথায় যেন ব্যথা ক‌রে। ওর বাবাও যা ক‌রে‌ছেন, যে হুমকি দি‌য়ে‌ছেন, সন্তানের অমঙ্গল আশঙ্কায় ক‌রে‌ছেন। সিফু খা‌নিক থমকায়, বে‌ডে রা‌জিব। অচেতন। ভা‌গ্যিস হেল‌মেট ছিলো মাথায়। বাইক এক‌সি‌ডেন্ট আরো নির্মম হয় সব সময়। বেঁচে গে‌ছে রা‌জিব ভা‌গ্যের জো‌রে। রা‌জি‌বের অচেতন মুখের দি‌কে তাকায় সিফু। তার ভালোবাসার মানুষ‌টি, ভালোবাসার পুরুষ। ক্ষ‌ণি‌কের জন্য বাবার মুখ‌টিও ভে‌সে ওঠে। ভালোবাসার নয়‌ কি! যে পুরুষ এক‌টি মে‌য়ের প্রথম ভালোবাসা, সে পুরুষ, বাবা। সিফাত কাঁদে। স্বামীর জন্য, না‌কি বাবার আদ্রতায়, কে জা‌নে!
বের হয় সিফু। আটমাস পর মা‌য়ের কাঁধে মাথা রা‌খে ও। পরম ভালোবাসায় আত্মজা‌কে জড়ায় মা।
: তোর বাবা বড্ড ভয় পে‌য়ে‌ছিলো?
সিফু কাঁদে।
: কেন, মা? বাবা‌ তো কতবার রা‌জিব‌কে খুন কর‌তেও চে‌য়ে‌ছে!
: সে‌ তো রা‌গের কথা! বাবারা রাগ ক‌রে কত‌ কিছুই ব‌লে। তোর বাবা‌কে ফোন ক‌রে‌ছিল পু‌লিশ। রা‌জি‌বের সেভ করা নম্বর থে‌কে। তোর বাবা পাগলের মতন ছু‌টে গে‌ছে। কাপড়টাও পা‌ল্টে‌নি। বারবার বির‌বির কর‌ছিলো, 'আমার মে‌য়ে যেন আমি থাক‌তে বিধবা না হয় আল্লাহ। শুধু আমার মে‌য়ের জন্য সবুর কর প্রভু।'
সিফু মা‌য়ের কাঁধের ওপর মাথা রে‌খে তাকায় ওর জীব‌নের প্রথম ভালোবাসার পুরু‌ষের পা‌নে। সারা‌দি‌নের ক্লা‌ন্তি‌তে ম্রিয়মান এক মাঝবয়সী পুরুষ। ওর বাবা, জা‌হিদ পা‌টোয়ারী। চো‌খে জল চিক‌চিক কর‌ছে তার। পরা‌জিত আজ অভিমানী পিতা, জয়ী তার আত্মজা। হে‌রে গে‌ছেন ভালোবাসায়, মে‌য়ের কা‌ছে। সিফু এগি‌য়ে যায় বাবার কা‌ছে। বাবা দুই হা‌তে জড়ি‌য়ে ধ‌রেন মে‌য়ে‌কে। এই তো সে ছোট্ট দু‌টো হাত। ভাল‌োবে‌সে যে হাতদু‌টো আঁক‌ড়ে ধরত তা‌কে। অভিমানী মানুষ দুজন ডুক‌রে কাঁদে। মা, রা‌ফিন, শাশুড়ীমা সবাই একটু দূ‌রে স‌রে সময় দেন ওদের‌কে। বাবা মে‌য়ে কাঁদে, ডুক‌রে, ফুঁপি‌য়ে, সুর ক‌রে। ভালোবাসা নে‌মে আসে হাসপাতা‌লের জানালার কাঁচ গলে। মে‌য়ে আধো‌বো‌লে বির‌বির ক‌রে।
: বাবা, তু‌মি নানা হচ্ছো।
বাবা হা‌সে, আন‌ন্দে। বাবা কাঁদে, আন‌ন্দে। ভালোবাসারা ভীড় ক‌রে ওদের চারপা‌শে, গোপ‌নে, আপ‌নে, প্রকা‌শ্যে। চাঁদের মতন এক থালা ভালবাসা।
"এক থালা ভালোবাসা"
~অহনা কিঙ্বতী
করোনার সময়ে জরুরি সাহায্য পেতে ফোন করুন

করোনার সময়ে জরুরি সাহায্য পেতে ফোন করুন

করোনার সময়ে জরুরি সাহায্য পেতে ফোন করুন
করোনার সময়ে জরুরি সাহায্য পেতে ফোন করুন,
সর্দি-কাশি ও জ্বরে চিকিৎসকের পরামর্শ
জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর)
নম্বর: ১০৬৫৫ ও ০১৯৪৪৩৩৩২২২
Lifebuoy Soap ই–মেইল: iedcrcovid19@gmail.com
করোনাবিষয়ক তথ্য পেতে এবং সম্ভাব্য আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য দিতে ওয়েবসাইট: corona.gov.bd 
স্বাস্থ্য বাতায়নের হটলাইন নম্বর ১৬২৬৩
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের  হটলাইন নম্বর ৩৩৩
সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর: ০১৭৬৯০৪৫৭৩৯
মিথ্যা বা গুজব প্রচারের বিষয়টি নজরে এলে ৯৯৯  অথবা ৯৫১২২৬৪, ৯৫১৪৯৮৮
দাফন কার্যক্রমে সহায়তা পেতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই যুগ্ম সচিবের মুঠোফোন নম্বর: ০১৭১২০৮০৯৮৩ ও ০১৫৫২২০৪২০৮
করোনা পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টারে ফোন বা এসএমএস করা যাবে, প্রতি দিন এবং যেকোনো সময়। টোল ফ্রি নম্বর: ১০৯ 
মনঃসামাজিক সহায়তা সেল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মনঃসামাজিক সহায়তা সেল চালু করেছে। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ফোনকলের মাধ্যমে সেবা মিলবে।
ফোন:  ০১৮১১৪৫৮৫৪১ও০১৮১১৪৫৮৫৪২
মুঠোফোনে দন্ত রোগের চিকিৎসা মুখ ও দাঁতের চিকিৎসা পেতে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সদস্যদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নেওয়া যাবে। নম্বর: ০১৭১১১৩৬৩৬২, ০১৭৪১৪৯০১৩৪, ০১৭১১৫৪০০৪৫, ০১৭১১৯৩৭৫৯০, ০১৭১১৮০০০৪৯, ০১৭১২৪৮৬৫৪৮ ০১৭১৫০৭৫৭৪০, ০১৭১৭২১১১০৫, ০১৮১৭৫৪১০০৫ ও ০১৮১৭০৯৪৩৩১
জরুরি ত্রাণ পেতে ঢাকা জেলা প্রশাসনের হটলাইন: ০২৪৭১১০৮৯১, ০১৯৮৭৮৫২০০৮
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ০১৭০৯৯০০৭০৩, ০১৭০৯৯০০৭০৪
 ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরামর্শ সেবা

পাঁচটি অঞ্চলে করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত চিকিৎসা তথ্য ও পরামর্শ সেবা চালু। মগবাজার: ৯৩৫৫২৭৭, মোহাম্মদপুর: ০১৩১১-৯৪৬৪৩২, মাজার রোড, মিরপুর: ০১৩০১-৫৯৬৮৩৯, বর্ধিত পল্লবী, মিরপুর: ০১৭৭০-৭২২১৯৪ এবং উত্তরা: ০১৩১৪-৭৬৬৫৪৫